লিথিয়াম ব্যাটারি দাম কত আর এটির সুবিধা এবং অসুবিধা কি কি?
![]() |
আমরা সবাই জানি বর্তমান বিশ্বে লিথিয়াম ব্যাটারি এর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে অনেক আগে থেকেই। কিন্তু আমাদের দেশে এই ব্যাটারির চাহিদা কিছুটা বাড়লেও লিড এসিড পানি ব্যাটারির তুলনায় তা অতি ক্ষুণ্ণ। এর প্রধান কারণ হচ্ছে এদেশে লিথিয়াম ফসফেট ব্যাটারির কোনও অথেনটিক বিক্রেতা, কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান এদেশে না থাকা। বেশিরভাগ সেলাররা ইউজড ব্যাটারি সেল এনে নিজেরা ফিটিং করছে এমনটা অভিযোগ করছেন অনেকেই, আবার অনেকের ধারনা নতুন সেল এনেও ব্যাটারি ফিটিং করে এমন সেলার দেশে অনেক আছে। তাই এই ক্রয় করার আগে অবশ্যই একজন বিশ্বস্ত সেলারের কাছ থেকে ক্রয় করুন।
গ্যারান্টি এর শর্তসমূহ পরিষ্কারভাবে জেনে নিন। বাংলাদেশের অধিকাংশ বিক্রেতা BMS ও Active Balancer সার্কিটের গ্যারান্টি আপনাকে দিবেনা, আর এখানেই আপনাকে একটি ফাঁদে ফেলবে যদি পরিষ্কারভাবে জেনেশুনে ব্যাটারি ক্রয় না করেন। একটি লিথিয়াম ফসফেট ব্যাটারির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে এই BMS ও Active Balancer সার্কিট, যা সবচেয়ে বেশি একজন ইউজারকে ভোগাতে পারে। তাই গ্যারান্টি এর কন্ডিশন তাদের কি কি ও সেটি কতবছর এর সেগুলো বিষয়ে বিস্তারিতভাবে জেনে নিন সেলারের কাছ থেকে।
আসুন জেনে নেই লিথিয়াম ব্যাটারির সুবিধা ও অসুবিধাগুলো কি?
লিথিয়াম ফসফেট ব্যাটারি এর সুবিধা কি?
বর্তমান বিশ্বে লিথিয়াম ব্যাটারি খুব দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, এর কারণ এটির লাইফ সাইকেল। একটি ব্যাটারি একবার ডিসচার্জ করে পুনরায় ফুল চার্জ করলে একটি সাইকেল খরচ হয়। একটি লিড এসিড পানি ব্যাটারিতে লাইফ সাইকেল থাকে ৬০০ থেকে ৭০০ কিন্তু একটি লিথিয়াম ফসফেট ব্যাটারিতে লাইফ সাইকেল থাকে সর্বনিম্ন ২৫০০ পর্যন্ত। লাইফ সাইকেল বেশি হওয়ার কারণে এই ব্যাটারি খুব দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ইউজারদের কাছে আর এই ব্যাটারি ওজনেও বেশ হালকা। একটি লিথিয়াম ফসফেট ব্যাটারির ব্যাকাপও লিড এসিড পানি ব্যাটারির তুলনায় অনেক বেশি হয়, একটি পানি ব্যাটারির তুলনায় এটি লোড নিতে পারে অনেক বেশি। একটি ২০০ এম্পিয়ার লিড এসিড পানি ব্যাটারিতে আপনি ৬০০ ওয়াট এর বেশি লোড দিলে ব্যাটারি খুব দ্রুত ভোল্টেজ ড্রপ করবে, যা লিথিয়াম ফসফেট ব্যাটারি অনায়াসে অধিক পরিমাণে লোড দিলেও ভোল্টেজ হঠাৎ ড্রপ করবেনা। এছাড়া আপনি একটি ১০০ এম্পিয়ার লিথিয়াম ফসফেট ব্যাটারিতে ব্যাকাপ পাবেন ১৫০ এম্পিয়ার পানি ব্যাটারির সমান। এছাড়াও অনেক ধরনের সুবিধা পাবেন যদি আপনি একটি ভালো লিথিয়াম ফসফেট ব্যাটারি ক্রয় করতে পারেন।
লিথিয়াম ফসফেট ব্যাটারি এর অসুবিধা কি?
একটি লিথিয়াম ব্যাটারি আপনাকে যেমন অনেক ধরনের সুবিধা দিতে পারে তেমনি একটু এদিক-সেদিক হলে আপনাকে বেশ ভোগাতেও পারে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আপনাকে ভোগাতে পারে BMS সার্কিট, যা আপনার সামান্য ভুলের কারণে ভোগান্তির কারণ হতে পারে। এই লিথিয়াম ফসফেট ব্যাটারি ইউজের ক্ষেত্রে আপনাকে আপনার ব্যাটারিতে ইউজ হওয়া BMS সার্কিটের উপর খেয়াল রেখে ব্যাটারিতে লোড দিতে হবে, আপনার ব্যাটারিতে ১০০ এম্পিয়ারের BMS সার্কিট ইউজ করা হলে আপনি ১০০ এম্পিয়ার এর উপরে লোড দিতে পারবেন না। আপনার ব্যাটারিতে যদি Active Balancer ইউজ করা না হয় এক্ষেত্রেও আপনাকে বিভিন্ন সমস্যা ফেইস করতে হতে পারে। তাই ক্রয় করার আগে ব্যাটারিতে BMS ও Active Balancer সার্কিটের ব্যবহার হয়েছে কিনা এবং কত এম্পিয়ার ইউজ করা হয়েছে তা পরিষ্কার হয়ে নিন। একজন লিথিয়াম ইউজার এর সবচেয়ে ভোগান্তির কারণ হচ্ছে BMS Shutdown সমস্যা, আপনার আইপিএস লো-ব্যাটারি সিগন্যাল দেয়ার পর যদি বন্ধ হয়ে যায় সেক্ষেত্রে আপনার লিথিয়াম ফসফেট ব্যাটারি নিজেকে সেইফ রাখার জন্য BMS Shutdown করে দেয়। আর একবার BMS Shutdown হয়ে গেলে তা পুনরায় চালু করা এতটা সহজ নয়, অনেকের ক্ষেত্রে BMS Shutdown সমস্যার কারণে BMS সার্কিট পরিবর্তন করার দরকার হয়েছে। তবে স্মার্ট BMS সার্কিটে সুইচ অন করার অপশন থাকলেও এটিও তেমনটা ভালো সাপোর্ট দিতে পারছেনা ইউজারদের, তবে এই স্মার্ট BMS আপনাকে অনেকটা ভোগান্তি কমাতে পারবে নরমাল BMS এর তুলনায়। কারণ এই স্মার্ট BMS সার্কিট Bluetooth ও Wifi এর মাধ্যমে আপনার ব্যাটারিকে নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। তাই সেলারের কাছ থেকে BMS ও Active Balancer বিষয়ে গ্যারান্টি বিষয়ে না জেনেশুনে এইধরনের ব্যাটারি কিনবেন না।
লিথিয়াম ফসফেট ব্যাটারি দাম কত বাংলাদেশে?
আমাদের দেশে এইধরনের ব্যাটারি অনেক সেলার বিক্রয় করলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে একেক সেলারের কাছ থেকে একেক ধরনের দাম শুনতে পারবেন। বাংলাদেশে বিখ্যাত কিছু প্রতিষ্ঠান আছে যারা নতুন সেল ইউজ করে এমনটা বলেই বিভিন্ন ক্রেতাদের কাছে লিথিয়াম ব্যাটারি বিক্রয় করছে। আমাদের দেশে একটি ১২ ভোল্ট ১০০ এম্পিয়ার ব্যাটারি ২৩০০০ থেকে শুরু করে ৩০০০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে, আর একটি ২০ ভোল্ট ১০০ এম্পিয়ার ব্যাটারি বিক্রয় হচ্ছে ৪৪০০০ হাজার থেকে শুরু করে ৫৫০০০ হাজার টাকা পর্যন্ত। এবং ২৪ ভোল্ট ২০০ এম্পিয়ারের ব্যাটারি বিক্রয় হচ্ছে ৯০০০০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ১০৫০০০ টাকা পর্যন্ত। এবং কিছু সেলার ১২ ও ২৪ ভোল্ট ১০০ এম্পিয়ার ব্যাটারি ৩ বছর ও কিছু সেলার ৪ বছর গ্যারান্টি এবং ২৪ ভোল্ট ২০০ এম্পিয়ার লিথিয়াম ফসফেট ব্যাটারি ৪ থেকে ৫ বছর গ্যারান্টি দিয়ে বিক্রয় করতেছে। ক্রয় করার আগে সেলারের সাথে এই বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলে নিন, এতে প্রতারিত হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকবে আর সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা হবে।
Lithium battery কিভাবে ক্রয় করবো?
অনেকেরই একটা প্রশ্ন থাকে আমি লিথিয়াম ব্যাটারি কোন প্রতিষ্ঠান থেকে ক্রয় করবো, আসলে সম্মানিত ভিজিটর এই বিষয়ে আপনাকে গ্যারান্টি দিয়ে আপনাকে কোনকিছু বলতে পারছিনা। তবে আমার একান্ত জানাশুনা কিছু বড় ভাই আছেন যারা লিথিয়াম ফসফেট ব্যাটারি নিয়ে কাজ করেন, আপনি চাইলে তাদের সাথে বিস্তারিত কথা বলে দেখতে পারেন। আপনার চাহিদা অনুযায়ী যদি বিক্রেতা আপনাকে সকল সেবা দিতে সম্মতি জানায় তাহলে ক্রয় করার সিদ্ধান্ত নিন। নিচে কিছু লিথিয়াম ফসফেট ব্যাটারির বিক্রেতাদের পেইজ লিংক দেয়া হয়েছে –
আমি আপনাদের শুধুমাত্র রেফারেন্স হিসেবে দিয়েছি এই সেলারের পেইজগুলোকে, কেউ যদি লিথিয়াম ব্যাটারি ক্রয় করে ভোগান্তিতে পড়েন এক্ষেত্রে এই সাইটের এডমিন কোনোভাবে দায়ী থাকবেনা। তাই সেলারের সাথে বিস্তারিত কথা বলে নিন, সেই সেলার যদি আপনার চাহিদা অনুযায়ী সেবা দিতে সম্মতি জানায় তাহলে ক্রয় করার সিদ্ধান্ত নিন।
