ভোটার আইডি কার্ড অনলাইনে সংশোধন আবেদন করার নিয়ম

ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন

ভোটার আইডি কার্ড বা জাতীয় পরিচয়পত্র খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য এটি আরও গুরুত্বপূর্ণ। কাজে যোগদান থেকে শুরু করে জমি ক্রয়-বিক্রয়, মামলা-মোকদ্দমা, ব্যাংক লেনদেন, কোথাও ভর্তি, বিদেশ ভ্রমণসহ বিভিন্ন কাজে জাতীয় পরিচয়পত্রের প্রয়োজন হয়। বর্তমান সরকার দেশের মানুষকে সর্বোচ্চ নাগরিক সেবা দিতে স্মার্ট কার্ড বিতরণ ও বৈধতা নিশ্চিত করে আসছে। কিন্তু দেখা যায়, অনেকেরই জাতীয় পরিচয়পত্রে নানা ধরনের ভুল রয়েছে- নামের ভুল বানান, নামের ভুল অংশ, ভুল ঠিকানা, বাবা-মায়ের ভুল নাম, জন্মতারিখ ইত্যাদি।

আপনি যদি অনলাইনে NID Card সংক্রান্ত কোনো পোস্ট দেখেন তাহলে দেখতে পাবেন হাজার হাজার মানুষের মনে প্রশ্ন আছে "National ID Card সংশোধন করার জন্য কী প্রয়োজন?" কিন্তু এই প্রশ্নের কোন সহজ সমাধান নেই। কারণ আইডি কার্ডে অনেক তথ্য থাকে এবং প্রতিটি তথ্য সংশোধনের জন্য আলাদা আলাদা নথির প্রয়োজন হয়। আইডি কার্ডে নাম সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিকানা সংশোধনের জন্য আর উপযোগী নয়।

একইভাবে আইডি কার্ডে জন্ম তারিখ সংশোধনের জন্য জন্মনিবন্ধন, সার্টিফিকেটসহ আরও বেশ কিছু নথির প্রয়োজন হলেও National ID Card থেকে ছবি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এসব কাগজপত্র কোনো কাজে আসে না।

সুতরাং, ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করতে কী লাগে এই প্রশ্নের উত্তর হল যে আপনার আইডি কার্ডে ভুল তথ্য পরিবর্তন করতে আপনাকে সঠিক তথ্যের পক্ষে নথি জমা দিতে হবে। আজ আমরা আপনাদের বলবো ন্যাশনাল আইডি কার্ডে কোনো ভুল হলে কী কী তথ্য বা নথি জমা দিতে হবে। এর সাথে, আপনি এটিও খুঁজে বের করতে পারেন যে ত্রুটির আবেদনটি কোন বিভাগে পড়ে।

National ID Card ধারীরা অনলাইনে কার্ড সংশোধন এবং এনআইডি আবেদন করার নিয়ম বা পদ্ধতি না জানলে বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হন। আমাদের আজকের পোস্টের লক্ষ্য সেই সমস্যা থেকে মুক্তি বা সমাধান করা।

যে ভুলগুলো সংশোধন করা যায়

বাংলাদেশের নাগরিকদের ২০০৮ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পরিচয়পত্র বা স্মার্ট কার্ড দেওয়া হচ্ছে। শুরু থেকেই এই জাতীয় পরিচয়পত্রে বিভিন্ন ভুলের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

জাতীয় পরিচয়পত্রে ভুল থাকলে নানা হয়রানির শিকার হতে হয়। অনলাইনে National ID Card সংশোধনের সুযোগ থাকলেও তা কীভাবে করবেন তা নিয়ে সমস্যায় পড়েন অনেকে।

কিন্তু ঘরে বসে প্রমাণসহ অনলাইনে আবেদন করলে ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে এই ভুলগুলো সংশোধন করা যায়।

যে ভুলগুলি সংশোধন করা যেতে পারে তা হল:

  • বাবা, মা, স্বামীর নামের আগে মৃত লিখতে ভুলবেন না।
  • ভোটার অবিবাহিত হলেও বাবার বদলে স্বামী লেখা হয়।
  • বিয়ের পর স্বামীর নাম যোগ করা।
  • তালাকের পর স্বামীর নাম বাদ দেওয়া।
  • পুনর্বিবাহের ক্ষেত্রে পরবর্তী স্বামীর নাম যোগ করা।
  • পেশা পরিবর্তন।
  • পিতামাতার মৃত্যুর ক্ষেত্রে মৃত পদ্ধতি।
  • ঠিকানা পরিবর্তন।
  • জন্ম তারিখ পরিবর্তন।
  • স্বাক্ষর পরিবর্তন ইত্যাদি।

অনলাইনে ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন ও আবেদনের নিয়ম ও পদ্ধতি

অনলাইনে জাতীয় পরিচয়পত্রের ভুল সংশোধনের জন্য, এই ঠিকানায় প্রবেশ করে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন এবং সেখানে NID নম্বর দিন। এই অ্যাকাউন্টে, আপনি একটি লিঙ্ক পাবেন যা অনলাইনে ভুল তথ্য সংশোধনের জন্য ফি-এর ধরন তালিকাভুক্ত করে।

পরিচয়পত্রে দেওয়া যেকোনো তথ্য পরিবর্তন করতে চাইলে প্রথম আবেদনের জন্য ২০০ টাকা, দ্বিতীয়বার ৩০০ টাকা এবং পরবর্তী প্রতিটি আবেদনের জন্য ৪০০ টাকা ফি দিতে হবে।

জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য সংশোধনের ধরনের উপর ফি নির্ভর করে। তবে সব ফিতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট যোগ করা হয়েছে।

তথ্য সংশোধন

জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি স্মার্ট কার্ডে প্রিন্ট করা তথ্য যেমন নাম/পিতা-মাতা/স্বামী/ঠিকানা/ব্লাড গ্রুপ সংশোধন।

  • প্রথমবার ২৩০ টাকা
  • দ্বিতীয়বার- ৩৪৫ টাকা
  • তৃতীয়বারের জন্য ৫৭৫

অন্যান্য তথ্য সংশোধন

শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশা, ধর্ম, পাসপোর্ট এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স জাতীয় পরিচয়পত্র বা ন্যাশনাল আইডি কার্ডে প্রিন্ট করা হয়নি এমন তথ্যের পরিবর্তন।

জাতীয় পরিচয়পত্র অনলাইনে সংশোধনের নিয়ম

জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি কার্ডের যেকোনো ভুল ইউনিয়ন পরিষদ পর্যায়ে গিয়ে সংশোধন করা যাবে।

এই ক্ষেত্রে, কেউ যদি ঘরে বসে অনলাইনে NID বা National ID Card সংশোধন করতে চান তবে তিনি উল্লেখিত উপায়ে ব্যবস্থা নিতে পারেন।

অনলাইনে এনআইডি কার্ডের যেসব তথ্য সংশোধন করা যায়

  • ব্যক্তিগত তথ্য পরিবর্তন করুন।
  • ঠিকানা পরিবর্তন।
  • নির্বাচনী এলাকা পরিবর্তন।
  • ছবি পরিবর্তন।
  • ন্যাশনাল আইডি কার্ড/ভোটার আইডি কার্ড রিপ্রিন্ট।

অনলাইনে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য বা ছবি পরিবর্তনের নিয়ম

১. আপনি যদি আপনার National NID Card এর তথ্য অনলাইনে পরিবর্তন করতে চান, তাহলে প্রথমে আপনাকে বাংলাদেশ এনআইডি পোর্টাল বা ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করতে হবে।

২. একবার নিবন্ধন সম্পন্ন হলে, সেখানে দেওয়া লিঙ্কে যাওয়ার পরে, আপনাকে প্রয়োজনীয় তথ্য সহ অ্যাকাউন্টে লগ ইন করতে হবে।

৩. লগ ইন করার পর যদি আপনি একটি ওয়েবপেজ দেখতে পান, তাহলে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন বা উপরের বাম দিকে 'প্রোফাইল' ট্যাবে ক্লিক করুন।

৪. প্রোফাইল ট্যাবে আসার পরে, নাম, জন্ম তারিখ, জন্মস্থান, পিতামাতার নাম সহ সমস্ত প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য দেখা যাবে।

৫. তারপর উপরের ডানদিকে 'Edit' নামক একটি বোতাম আসবে।

৬. সম্পাদনা বোতামে ক্লিক করলে জাতীয় পরিচয়পত্রের নির্ধারিত তথ্য পরিবর্তনের জন্য প্রযোজ্য ফি বা চার্জ দেখানো হবে।

৭. সেখান থেকে, 'নিশ্চিত করুন' বোতামে ক্লিক করলে আপনাকে এডিট প্রোফাইলে নিয়ে যাবে। কার্ডধারীর সমস্ত ব্যক্তিগত তথ্য এখানে দেখা যাবে।

৮. প্রতিটি তথ্যের পাশে একটি বাক্স থাকবে। এই বক্সগুলিতে ক্লিক করলে বক্সটি টিক হয়ে যাবে এবং টিক দেওয়া বক্সের তথ্য সম্পাদনা করা যাবে।

৯. NID তে নাম, জন্ম তারিখ, রক্তের গ্রুপ, জন্ম নিবন্ধন নম্বর, পিতামাতার নাম ইত্যাদি এই পেজ থেকে পরিবর্তন করা যাবে। ফলস্বরূপ, আপনি যে তথ্য পরিবর্তন করতে চান তার পাশে টিক দিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সম্পাদনা করতে হবে।

১০. সম্পাদনা করার পরে, উপরের ডানদিকে 'Next' বোতামে ক্লিক করুন।

১১. তারপরে আপনাকে পরিবর্তন ট্যাবে নিয়ে যাওয়া হবে এবং সম্পাদনা করার পরে পরিবর্তিত স্থিতি দেখানো হবে৷ তারপর পরবর্তী বোতামে ক্লিক করার পর আপনাকে লেনদেন ট্যাবে নিয়ে যাওয়া হবে।

১২. এখান থেকে পরিবর্তনের জন্য নির্ধারিত ফি দিতে হবে।

তথ্য সংশোধন ফি প্রদানের পদ্ধতি

  • বিকাশ
  • ডাচ বাংলা ব্যাংক এবং রকেট মোবাইল ব্যাংকিং
  • ওয়ান ব্যাংক লিমিটেড এবং ওকে ওয়ালেট মোবাইল ব্যাংকিং
  • ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড এবং টি-ক্যাশ মোবাইল ব্যাংকিং
  • মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড
  • বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক লিমিটেড
  • ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড

কিভাবে বিল পরিশোধ করতে হয়

বিকাশের মাধ্যমে বিল পরিশোধ করতে, আপনাকে অ্যাপটির 'পে বিল' অপ্টশনটি খুলতে হবে। তারপর 'সরকারি ফি' অপশন থেকে NIP পরিষেবাটি নির্বাচন করুন এবং যে পরিষেবাটির জন্য আবেদন করা হয়েছে তা নির্ধারণ করুন এবং অর্থপ্রদান করুন৷

রকেটের ক্ষেত্রে, অ্যাপটি খুলুন এবং 'পে বিল' অপশনে যান। সেখান থেকে '১০০০' লিখে সার্চ করার পর 'EC Bangladesh' অপশনটি নির্বাচন করতে হবে।

এরপর কার্ডধারীকে অন্য পৃষ্ঠায় নিয়ে যাওয়া হবে এবং NID কার্ড নম্বর চাওয়া হবে। নম্বর দেওয়ার পরে, এই কার্ড নম্বরের জন্য দেওয়া পরিমাণ জমা করা হবে। এরপরে, আপনি যদি 'অ্যাপ্লিকেশন টাইপ' টেক্সটে ক্লিক করেন, যদি আপনাকে দেখানো হয় যে কোন পরিবর্তনের জন্য কোন নম্বর লিখতে হবে, তাহলে প্রয়োজনীয় নম্বরটি লিখুন।

তারপর পৃষ্ঠার নীচে আপনি 'পে ফর' দেখতে পাবেন। সেখান থেকে, আপনি নিজের জন্য ফি প্রদান করলে, আপনাকে 'Self, যদি তা অন্যদের জন্য হয় Other'-এ ক্লিক করতে হবে

সমস্ত তথ্য পূরণ করার পর 'Validate'-এ ক্লিক করে 'OK' চাপুন। যদি 'বিলার শর্ট নেম' নামে একটি বাক্স দেখানো হয়, সেখানে কার্ডধারীর নামের সংক্ষিপ্ত রূপটি লিখতে হবে।

তারপর কত টাকা পাঠানো হবে তার তথ্য দেখা যাবে। মোবাইল অ্যাকাউন্টের পিন সহ প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ করার পরে একটি বিল রসিদ দেওয়া হবে।

বিল পরিশোধের পর, আইডি কার্ডের তথ্য পরিবর্তন পৃষ্ঠায় পুনরায় প্রবেশ করুন।

'লেনদেন' পৃষ্ঠাটি পুনরায় লোড করার পরে, প্রদত্ত অর্থ এখানে আবার প্রদর্শিত হবে। 'পরবর্তী' বোতামে ক্লিক করার পরে, ব্যবহারকারীকে ডকুমেন্ট ট্যাবে নিয়ে যাওয়া হবে।

সেখানে আপনাকে তথ্যের বৈধতা প্রমাণ করতে এসএসসি পরীক্ষার সার্টিফিকেট বা জন্ম সনদ পত্রের স্ক্যান কপি সহ 'পরবর্তী' বোতামে ক্লিক করতে হবে।

এখন আপনাকে আইডি কার্ডের সমস্ত বিবরণ পরিবর্তন করার প্রক্রিয়াটি নিশ্চিত করতে বলা হবে। প্রদত্ত তথ্য নিশ্চিত করার পরে, ডান পাশে 'Submit' বোতামে ক্লিক করুন এবং নতুন প্রোফাইল পৃষ্ঠাটি প্রদর্শিত হবে।

প্রোফাইলের নীচে 'বিস্তারিত' বোতামে ক্লিক করলে একটি নতুন পৃষ্ঠা উপস্থিত হবে।

এই পৃষ্ঠার উপরের ডানদিকে 'ডাউনলোড' বোতামে ক্লিক করলে একটি পিডিএফ ফাইল ডাউনলোড হবে। এই কপি সংরক্ষণ করা উচিত।

এরপর ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে জানানো হবে নতুন আইডি কার্ড কোথায় পাবেন। পিডিএফের প্রিন্ট কপি উল্লেখিত স্থানে নিয়ে গেলেই নতুন তথ্য সম্বলিত আইডি কার্ড ইস্যু করা হবে।

শেষ কথা

ভোটার আইডি কার্ড সংশোধনের ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে একটি তথ্য একবারই সংশোধন করা যাবে। তাই তথ্য সংশোধন করার সময় খেয়াল রাখতে হবে যাতে পরিবর্তনটি সঠিক হয়।

আপনি উপরে উল্লিখিত পদ্ধতির মাধ্যমে সহজেই অনলাইনে ন্যাশনাল আইডি কার্ড সংশোধনের জন্য আবেদন করতে পারেন। ধন্যবাদ

পরবর্তী পোস্ট পূর্ববর্তী পোস্ট
মন্তব্য নেই
মন্তব্য যোগ করুন
comment url