সঠিক উপায়ে হাইব্রিড ঢেঁড়স চাষ পদ্ধতি জেনে-নিন আজকেই।

হাইব্রিড ঢেঁড়স চাষ পদ্ধতি

হাইব্রিড ঢেঁড়স চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে অনেকেই প্রতিনিয়ত গুগলে সার্চ করে থাকেন। কারন ঢেঁড়স বাংলাদেশের খুবই জনপ্রিয় একটি সবজি। ছোট বড় প্রায় সকলেই ঢেঁড়স পছন্দ করেন। ঢেঁড়স দিয়ে তরকারি ছাড়াও স্যুপ,সালাদ আরো অনেক কিছু তৈরি করা যায়। যা খেতে খুবই সুস্বাদু।

ধারণা করা হয় ঢেঁড়সের উৎপত্তি হয়েছে উত্তর-পূর্ব আফ্রিকাতে তবে ঢেঁড়সের উৎপত্তি উত্তর-পূর্ব আফ্রিকাতে হলেও আমাদের দেশের বর্তমানে জনপ্রিয় সবজি গুলোর একটি হচ্ছে ঢেঁড়স। শুধু খেতেই সুস্বাদু তা নয়। ঢেঁড়স খুবই পুষ্টিগুণ সম্পন্ন একটি সবজি। ঢেঁড়সে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে যা আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে অনেক সাহায্য করে। একই সাথে ঢেঁড়সে রয়েছে ভিটামিন এ যা আমাদের চোখের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। ঢেঁড়সে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলি হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। যার ফলে বাংলাদেশে ঢেঁড়সের চাহিদা খুবই বেশি। তাই অনেকেই হাইব্রিড ঢেঁড়স চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে গুগলে সার্চ করে থাকেন।

হাইব্রিড ঢেঁড়স চাষ পদ্ধতি

হাইব্রিড ঢেঁড়স চাষে রয়েছে আমাদের দেশীয় ঢেঁড়সের তুলনায় অনেক বেশি সুবিধা। আমাদের দেশীয় ঢেঁড়সের তুলনায় হাইব্রিড ঢেঁড়সের ফলন হয় অনেক বেশি। একটি গবেষণায় দেখা গেছে আমাদের দেশীয় ঢেঁড়সের তুলনায় হাইব্রিড ঢেঁড়স চাষে ফলন হয় ৩০% থেকে ৫০% বেশি। একই সাথে হাইব্রিড ঢেঁড়স দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বেশি যার ফলে ফলনও হয় বেশি।

হাইব্রিড ঢেঁড়সের জাত:

ঢেঁড়স চাষে ভালো ফলন পেতে হলে অবশ্যই সঠিক এবং উন্নত মানের জাত নির্বাচন করতে হবে। আর আপনার জমিতে কোন জাতের ঢেঁড়স সবথেকে ভালো ফলন হবে এটা নির্ভর করে আপনার জমির মাটির উপর। তাই ভালো ফলনের জন্য জাত নির্বাচন করার আগে আপনার জমির মাটি পরীক্ষা করে স্থানীয় কৃষিবিদের পরামর্শ নিয়ে আপনার জমির জন্য ভালো হবে এমন একটি জাত নির্বাচন করুন। আপনাদের সুবিধার্থে নিচে কিছু জনপ্রিয় হাইব্রিড ঢেঁড়সের জাত উল্লেখ করা হলো।

সুবর্ণ সুপার ১:এটি একটি অত্যন্ত ফলনশীল জাত যা সারা বছর চাষ করা যায়। এটি রোগ প্রতিরোধী এবং এটিতে দীর্ঘ ফলন পাওয়ার সময়কাল থাকে।

রাজা:এটি একটি উচ্চ ফলনশীল জাত যা লম্বা, সরু এবং লালচে ঢেঁড়স উৎপন্ন করে। এটি রোগ প্রতিরোধী এবং খরার জন্য সহনশীল।

হিরক: এটি একটি উচ্চ ফলনশীল জাত যা গাঢ় সবুজ রঙের ঢেঁড়স উৎপন্ন করে। এটি খুবই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন একটি জাত।

শান্তি:এটি একটি উচ্চ ফলনশীল জাত যা  লম্বা, সরু এবং সবুজ রঙের ঢেঁড়স উৎপন্ন করে। এটি রোগ প্রতিরোধী এবং বৃষ্টির জন্য সহনশীল।

মধুমতি: এটি একটি উচ্চ ফলনশীল জাত যা  লম্বা, সরু এবং লালচে ঢেঁড়স উৎপন্ন করে। এটিও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন এবং পোকামাকড়ের জন্য সহনশীল।

হাইব্রিড ঢেঁড়সের বীজ বপন:

হাইব্রিড ঢেঁড়সের বীজ বাজারে খুব সহজেই পাওয়া যায়। বাজার থেকে সঠিক এবং উন্নত মানের বীজ সংগ্রহ করুন। তারপর বীজগুলোকে ১২ থেকে ২৪ ঘন্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। ভিজিয়ে রাখলে বীজ দ্রুত অঙ্কুরিত হয় এবং চারা গাছের বৃদ্ধি ভালো হয়।

বাংলাদেশে ঢেঁড়স চাষের জন্য দুটি প্রধান মৌসুম রয়েছে।

গ্রীষ্মকালীন মৌসুম: ফেব্রুয়ারী থেকে এপ্রিল মাস।

শীতকালীন মৌসুম: অক্টোবর থেকে নভেম্বর মাস।

আপনার এলাকার আবহাওয়া অনুযায়ী বীজ বপনের সময় নির্ধারণ করুন।

ঢেঁড়সের বীজ বপন করার জন্য দুই সেন্টিমিটার গর্ত করে প্রতি করতে ২ থেকে ৩ টি বীজ বপন করুন। এবং ৩০ সেন্টিমিটার দূরত্বে সারি তৈরি করুন। বীজ বপন শেষে মাটিতে হালকা সেচ দিন।

সার প্রয়োগ:

হাইব্রিড ঢেঁড়স চাষের ক্ষেত্রে সঠিক নিয়ম এবং সঠিক সময়ে সার প্রয়োগ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক সময় সার প্রয়োগ করলে ভালো ফলন পাওয়া যাবে। তবে স্যারের পরিমাণ নির্ভর করবে আপনার মাটির পুষ্টি এবং পুষ্টির অভাবের উপরে। তাই সঠিক পরিমাণে সার প্রয়োগের জন্য আগে মাটি পরীক্ষা করে নিন। একটি সাধারন নির্দেশিকা দেওয়া হলো 

  • ইউরিয়া: প্রতি হেক্টরে ১০০-১২০ কেজি
  • টিএসপি: প্রতি হেক্টরে ১৫০-২০০ কেজি
  • এমওপি: প্রতি হেক্টরে ৮০-১০০ কেজি
  • জিপসাম: প্রতি হেক্টরে ২০-৩০ কেজি

ইউরিয়া সারকে তিন ভাগে ভাগ করে প্রথম ভাগ বীজ বাপনের সময় দ্বিতীয় ভাগ ফুল ফোটার সময় এবং তৃতীয় ভাগ ফল ধরার সময় প্রয়োগ করুন। 

এমওপি সারকে বীজ বপণের সময় এবং ফল ধরার সময় প্রয়োগ করুন। আর অবশিষ্ট টিএসপি এবং জিপসাম কে প্রয়োগকরণ বীজ বপণের সময়। 

বীজ বপনের আগে মাটির উর্বরতা বাড়াতে জৈব সার ব্যবহার করতে পারেন।

সার প্রয়োগের সময় স্থানীয় কৃষিবিদের পরামর্শ নিতে পারেন এতে করে আপনার জমির মাটি এবং আবহাওয়া বিবেচনা করে সঠিক পরিমাণ এবং সঠিক সময়ে সার প্রয়োগ করতে সুবিধা হবে।

সেচ পদ্ধতি

ঢেঁড়স চাষে ভালো ফলন পাওয়ার জন্য নিয়মিত সেচ দিতে হবে। সেচ দেওয়ার সময় নির্ভর করবে মাটির আর্দ্রতা এবং আবহাওয়ার উপর। সাধারণত গ্রীষ্মকালে বেশি দিতে হয় এবং শীতকালে কম।

হাইব্রিড ঢেঁড়স চাষে সাধারণত ৭ থেকে ১০ দিন পরপর সেচ দিতে হয়। তবে মাটির আর্দ্রতা এবং আবহাওয়া বিবেচনা করে এই সময় পরিবর্তন হতে পারে। মাটি হালকা ও দোঁয়াশ হলে বেশি সেচের প্রয়োজন হয়, অপরদিকে ভারী মাটিতে কম সেচের প্রয়োজন হয় এবং গাছের বৃদ্ধির প্রাথমিক পর্যায়ে বেশি সেচের প্রয়োজন হয়, অপরদিকে ফল ধরার পর কম সেচের প্রয়োজন হয়।

হাইব্রিড ঢেঁড়স চাষে ভালো ফলাফল পেতে:

  • নিয়মিত আগাছা পরিষ্কার করুন।
  • মাটিতে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা বজায় রাখুন।
  • প্রয়োজনে সেচ দিন।
  • নিয়মিত সার প্রয়োগ করুন।
  • জৈব সার, যেমন গোবরের সার বা কম্পোস্ট ব্যবহার করা ভালো।
  • রাসায়নিক সার ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করুন।
  • প্রয়োজনে কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক ব্যবহার করুন।

প্রিয় পাঠক আমাদের আজকের এই পোষ্টে আপনারা জানতে পেরেছেন হাইব্রিড ঢেঁড়স চাষ পদ্ধতি সম্পর্কের সকল তথ্য। আরো এমন আর্টিকেলের জন্য আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করুন।

আরও পড়ুন সঠিক উপায়ে হাইব্রিড বেগুন চাষ পদ্ধতি জেনে-নিন আজকেই

Similar Posts