রড কত প্রকার ও রডের বিভিন্ন প্রকার সম্পর্কে জেনে নিন আজই।

রড কত প্রকার

রড কত প্রকার এটা সম্পর্কে জানতে প্রতিনিয়ত মানুষ গুগলে খুঁজে থাকেন। আমাদের দেশে প্রায় অনেক প্রকার রড পাওয়া যায়। তাই আমাদের আজকের এই আর্টিকেলে আপনারা জানতে পারবেন রড কত প্রকার এবং রড নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সব তথ্য। অবকাঠামো নির্মাণের রডের গুরুত্ব অপরিসীম। রড বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তাই নির্মাণের ধরন অনুযায়ী সঠিক রড নির্বাচন করতে হবে। রড কংক্রিটকে শক্তি প্রদান করে এবং এটিকে টান, চাপ এবং বাঁকানোর মতো চাপ সহ্য করতে সাহায্য করে। একটি ভবন নির্মাণের মোট খরচের ১০ থেকে ১২ শতাংশ খরচ হয় রড এর পেছনে। ভবনের স্থায়িত্ব চাপ সহ্য করার ক্ষমতা সবকিছু নির্ভর করে রডের উপর। তাই অবশ্যই নির্মাণ করার সময় সঠিক এবং উন্নত মানের রড নির্বাচন করতে হবে। তবে রড কত প্রকার এটা সম্বন্ধে আমরা অনেকেই জানিনা। চলুন জেনে নেওয়া যাক।

রড কত প্রকার

রড কত প্রকার, তা নির্ভর করে আপনি কোন দিক থেকে বিবেচনা করছেন তার উপর। সেটা হতে পারে উৎপাদন,ব্যবহার,আকার,মান এগুলোর উপর ভিত্তি করে।একটি ছাদের ক্ষেত্রে সাধারণত কংক্রিট চাপ সহ্য করার শক্তি দিয়ে থাকে আর লোহা(রড) দিয়ে থাকে টান সহ্য করার শক্তি।

কার্বনের উপস্থিতির উপরে নির্ভর করে

  • কার্বনের উপস্থিতির উপর নির্ভর করে বলতে গেলে লোহা(রড) সাধারণত তিন প্রকার।
  • মৃদু কার্বন লোহা, মাঝারি কার্বন লোহা এবং উচ্চ কার্বন লোহা।
  • মৃদু কার্বন লোহাতে কার্বনের পরিমাণ থাকে ০.২৫% এবং  মাঝারি কার্বন লোহাতে হাতে কার্বনের পরিমাণ থাকে। ০.২৫% থেকে ০.৭%। অতঃপর উচ্চ কার্বন রডে কার্বনের পরিমাণ থাকে ০.৭% থেকে ১.৫%।

গ্রেড বা মানের উপর ভিত্তি করে:

  • ৪০ গ্রেড রড: টান সহ্য করার ক্ষমতা ৪০,০০০ psi।
  • ৬০ গ্রেড রড: টান সহ্য করার ক্ষমতা ৬০,০০০ psi।
  • এসটিএমএম ৬১৫: ৬০ গ্রেডের একটি রড।
  • এসটিএমএম ৭০৬: ৬০ গ্রেডের আরেকটি রড।
  • বি৫০০সি ডব্লিও আর: ৭২.৫ গ্রেডের একটি রড।
  • বি৫০০ডি ডব্লিও আর: ৭২.৫ গ্রেডের আরেকটি রড।

আকারের উপর ভিত্তি করে:

আকারের উপর ভিত্তি করে বলতে গেলে সাধারণত তিন ধরনের হয়ে থাকে। ছোট রড, মাঝারি রড এবং বড় রড। 

  • ছোট রড: ব্যাস ৬ মিলিমিটার থেকে ১৬ মিলিমিটার পর্যন্ত।
  • মাঝারি রড: ব্যাস ১৮ মিলিমিটার থেকে ৩২ মিলিমিটার পর্যন্ত।
  • বড় রড: ব্যাস ৩৬ মিলিমিটার এর বেশি।

ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে:

এ ছাড়াও আপনার ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে রডের বিভিন্ন প্রকার রয়েছে। যেমন নির্মাণ রড, কাটাযুক্ত রড, জালি রড এবং রিইনফোর্সিং রড।

  • নির্মাণ রড: ভবন নির্মাণে ব্যবহৃত হয়।
  • কাঁটাযুক্ত রড: ফাউন্ডেশনে ব্যবহৃত হয়।
  • জালি রড: ছাদ ঢালাইয়ে ব্যবহৃত হয়।
  • রিইনফোর্সিং রড: কংক্রিটের শক্তি বৃদ্ধির জন্য ব্যবহৃত হয়।

রড ব্যবহারের নির্দেশিকা:

জেনে রাখা জরুরী যে নির্মাণ কাজের রড ব্যবহারের আগে অবশ্যই স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান, ইঞ্জিনিয়ার বা কনসালটেন্ট দ্বারা রডের গুনাগুন পরীক্ষা করা জরুরী

  • সাধারণত ৩ এবং ৪ সুতা রড বাড়ি বা ভবনের ছাদের রড হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
  • আর ৫ সুতা বা তার ততোধিক রড সাধারণত কলাম, ফাউন্ডেশন এবং বিমে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
  • অন্যদিকে ২ এবং ৩ সুতা রড ব্যবহার হয়ে থাকে টাই রড হিসেবে বিম বা কলামে

প্রিয় পাঠক আশা করি আমাদের আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আপনারা খুব ভালোভাবে জানতে পেরেছেন রড কত প্রকার আরো এমন সব আর্টিকেল পেতে আমাদের ওয়েবসাইটটি ঘুরে দেখুন।

আরও পড়ুন ১ টন রড কত কেজি? ১ টন সমান কত গ্রাম রড বাংলাদেশে জানুন

Similar Posts