মাশরুম চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে সঠিক নিয়মগুলো জেনে নিন আজই।

মাশরুম চাষ পদ্ধতি

মাশরুম চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে প্রতিনিয়ত অনেক মানুষ গুগলে সার্চ করে থাকেন। কারণ আমাদের দেশে প্রতিনিয়ত মাশরুম এবং মাশরুম চাষের জনপ্রিয়তা বেড়েই চলেছে। মাশরুম হলো ব্যাঙের ছাতার মতো দেখতে এক ধরনের ছত্রাক এটি কোনো উদ্ভিদ নয়। ব্যাঙের ছাতা আর মাশরুম দেখতে অনেকটা একই রকম হলেও দুটির মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। ব্যাঙের ছাতার মতো দেখতে কিছু বন্য মাশরুম বিষাক্ত এবং অখাদ্য। সূর্যের আলোতে খুব বেশি মাশরুম জন্মাতে পারেনা প্রাকৃতিকভাবে তাই প্রাকৃতিক উপায়ে খাওয়ার জন্য খুব বেশি মাশরুম পাওয়া যায় না। আমাদের দেশে অনেক জায়গায় বিজ্ঞানসম্মতভাবে মাশরুম চাষ করা হয়। বৈজ্ঞানিকভাবে চাষ করা মাশরুম একটি উচ্চ পুষ্টিকর খাদ্য।

আমাদের দেশের অনেক জায়গায়, বিশেষ করে ঢাকা, পার্বত্য চট্টগ্রাম, মধুপুর প্রভৃতি এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে মাশরুম চাষ ও বাজারজাত করা হয়। আপনার পরিবারের পুষ্টি চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি আপনি মাশরুম চাষ করে বাড়তি আয়ও করতে পারেন। আর মাশরুম চাষের ক্ষেত্রে কোন উর্বর জমির প্রয়োজন হয় না।

মাশরুম শুধু সুস্বাদু খাবারই নয় এটি খুবই পুষ্টিগুণ সম্পন্ন একটি খাবার। মাশরুমে রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন বি৩, সেলেনিয়াম, পটাশিয়াম, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ফাইবার সহ আরো পুষ্টি উপাদান যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী।

মাশরুমের কিছু স্বাস্থ্যগত উপকারিতা হলো:

  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি
  • হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়
  • মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো
  • ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে
  • হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো
  • ওজন কমাতে সাহায্য করে
  • মধুমেহ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে

এগুলো ছাড়াও রয়েছে আরও বহু স্বাস্থ্য উপকারিতা। যার ফলে মাশরুমের চাহিদা সব সময় বেশি। তাই অনেকেই মাশরুম চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চান তাই চলুন জেনে নেওয়া যাক।

মাশরুম চাষ পদ্ধতি

নিজের বাড়িতে ঘরে বসেই চাষ করার জন্য মাশরুম খুবই ভালো। এবং এটি চাষ করতে কোন রকম জমির প্রয়োজন হয় না একইসাথে এটি চাষ করাও একদম সহজ। এবং চাষ করতে খুব বেশি খরচের প্রয়োজন হয় না।

মাশরুমের জাত

ধারণা করা হয় সারা পৃথিবীতে মাশরুমের প্রায় কয়েক হাজার জাত রয়েছে। তবে আমাদের দেশে কয়েকটি জাত আছে। এর মধ্যে সবথেকে বেশি চাষ হয়ে থাকে ঝিনুক মাশরুম যার ইংরেজি নাম “Oyster mushroom”। আমাদের দেশে সাধারণত এটিকে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা হয়ে থাকে। এবং এটি সবথেকে ভালো চাষ হয়।

উপকরণ এবং পদ্ধতি

মাশরুম চাষের জন্য প্রয়োজন হবে পলিব্যাগ, খর এবং মাশরুমের বীজ। যা খুব সহজে আপনি পেয়ে যাবেন মাশরুম প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে, বাজারে কিংবা অনলাইন শপে।

মাশরুম চাষের জন্য খড়গুলোকে আধ থেকে এক ইঞ্চি মাপে ছোট ছোট করে কেটে নিন। কেটে নেওয়ার পর খড়গুলোকে খুব ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। এটিকে পরিষ্কার করার জন্য গরম পানিতে ২০ মিনিট ফুটিয়ে নিতে পারেন অথবা অন্য একটি পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারেন। সেটি হচ্ছে ব্লিচিং পাউডার বা চুন মেশানো পানিতে ২৪ ঘন্টা ভিজিয়ে রাখুন। তারপর খড়গুলোকে ফুটানোর পর বা ভিজিয়ে রাখার পর খুব ভালোভাবে পানি ঝরিয়ে নিতে হবে যাতে চাপ দিলে পানি না বের হয়। তবে হালকা একটু ভিজে ভাব থাকতে পারে।

তারপর একটা পলি ব্যাগে ২ ইঞ্চি খর ভর্তি করে এটির ধার গেসিয়ে মাশরুমের বীজ ছরিয়ে দিন। এমন করে আবার এটির উপর খর দিন এবং মাশরুমের বীজ ছড়িয়ে দিন। এভাবে প্রায় ৭-৮ স্তর করুন। প্রত্যেকবার খর বিছানোর পর এমন ভাবে চাপ দিন যাতে ভেতরে কোন হাওয়া না থাকে। এবং সবশেষে পলিথিনের মুখটাকে কয়েকটা প্যাঁচ দিয়ে বন্ধ করে দিন।

এবার প্রত্যেকটি প্যাকেটে ১০ থেকে ১২টি ছোট ছোট ছিদ্র করে দেন। এবং প্রত্যেকটি ছিদ্রে তোলা দিয়ে বন্ধ করে দিন। এতে করে প্যাকেটের ভেতর হাওয়া চলাচল স্বাভাবিক থাকবে। এবং তোলা থাকার ফলে কোনরকম ধুলাবালি ঢুকবে না। এবার প্যাকেটটিকে ৭ থেকে ১০ দিনের জন্য সূর্যের আলো পৌঁছায় না এমন একটি অন্ধকার জায়গায় রেখে দিন।

তবে লক্ষ্য রাখতে হবে অন্ধকার হলেও যেন জায়গাটিতে সব সময় হাওয়া চলাচল করে। এবং পোকামাকড় মুক্ত পরিচ্ছন্ন হয়। কারণ পোকামাকড় বিশেষ করে মাছি মাশরুম চাষে অনেক ক্ষতি করে থাকে।

এরপর কিছুদিনের মধ্যেই দেখতে পাবেন পলিব্যাগের যে জায়গায় বীজ রেখেছিলেন সেই জায়গায় এক ধরনের সাদা আস্তরণ তৈরি হচ্ছে যাকে বলা হয়ে থাকে মাইসেলিয়াম। কিছুদিনের মধ্যেই পুরো পলিব্যাগের সব জায়গায় মাইসেলিয়াম এ ভরে যাবে। মাইসেলিয়ামে ভরে গেলে এবার তোলা গুলো সরিয়ে নিন এবং পলি ব্যাগে আরো কিছু ছিদ্র করে দিন। এবার ব্যাগটিকে অন্ধকার থেকে বের করে কিছুটা আলোর মধ্যে রেখে দিন। তবে সরাসরি সূর্যের আলোয় রাখা যাবে না। ঘরের ভেতর যেটুকু আলো পৌঁছায় সেই আলোর মধ্যে রাখতে হবে। বাতাসের আর্দ্রতা বুঝে মাঝে মাঝে ব্যাগের উপর পানি দিয়ে স্প্রে করুন। তারপর কিছুদিনের মধ্যেই দেখতে পাবেন মাশরুমের পিনহেড উঁকি দেওয়া শুরু করেছে। সাধারণত ২৫ থেকে ৩০ দিনের মধ্যেই মাশরুম খাওয়ার উপযোগী হয়ে যায়। এবং প্রত্যেকটি ব্যাগ থেকে সাধারণত তিন থেকে চারবার ফলন পাওয়া যায়।

প্রিয় পাঠক আশা করি আমাদের আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে মাশরুম চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে আপনি একটি পরিপূর্ণ ধারণা পেয়েছেন। মাশরুম চাষ পদ্ধতি সহ আরো এমন সব পোস্ট পেতে আমাদের ওয়েবসাইটটি ভিজিট করুন।

আরও পড়ুন – আনারস চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে তাহলে ভালোভাবে জেনে নিন আজ

Similar Posts