মরিচ চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে সঠিক নিয়মগুলো জেনে নিন আজকেই

মরিচ চাষ পদ্ধতি

মরিচ চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে অনেকেই গুগলে সার্চ করে থাকেন। মরিচ বাংলাদেশের অর্থকারী ফসল গুলোর মধ্যে একটি। একই সাথে রান্নার প্রধান উপকরণের ভেতর একটি হচ্ছে মরিচ। এটি বাংলাদেশের নিত্য প্রয়োজনীয় মসলা গুলোর একটি। মরিচকে কাঁচা এবং পাকা দুই ভাবেই খাওয়া হয়ে থাকে।

মরিচ আমাদের দেশের প্রায় সব জায়গাতেই চাষ করা হয়ে থাকে। এবং বছরের সব সময় মরিচের প্রয়োজন হয় যার ফলে মরিচের চাহিদা সব সময় বেশি। বাংলাদেশের সব থেকে বেশি যে জেলা গুলোতে মরিচ চাষ করা হয়ে থাকে সেগুলো হলো বগুড়া, ফরিদপুর, নোয়াখালী,  জামালপুর, মেহেরপুর, বরিশাল, কুমিল্লা, চট্রগ্রাম এবং ময়মনসিং। এগুলোর মধ্যে সবথেকে বেশি চাষ করা হয়ে থাকে বরিশালে।

তবে মরিচকে অনেকেই শুধু খাবারের মসলা কিংবা আচারের প্রয়োজনীয় মসলা হিসেবে চিনে থাকেন। শুধু যে খাবারে ঝাল স্বাদ যোগ করে তার চেয়ে অনেক বেশি পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ। নিয়মিত খাদ্য তালিকায় মরিচ রাখলে আমাদের শরীর পায় প্রচুর পুষ্টি। মরিচের কিছু পুষ্টিগুণ হলো ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ভিটামিন বি6, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, আয়রন এগুলো ছাড়াও আরো পুষ্টিগুণ। মরিচের কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতা হলো:

  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
  • হজমশক্তি উন্নত করে।
  • রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে।
  • হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।
  • ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করে।
  • ব্যথা ও প্রদাহ কমায়।
  • ত্বক ও চুলের জন্য ভালো।
  • চোখের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
  • রক্ত শর্করা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
  • ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে।

এত সব স্বাস্থ্য উপকারিতার জন্য মরিচকে আপনি আপনার নিয়মিত খাদ্য তালিকায় রাখতে পারেন। তবে অবশ্যই মরিচ অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া যাবেনা।

মরিচ চাষ পদ্ধতি

এতসব পুষ্টিগুণ এবং চাহিদা থাকায় মরিচ চাষ করতে অনেকেই আগ্রহী হয়ে থাকেন। তবে মরিচ চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে ভালোভাবে জানেন না যার ফলে অনেকেই মরিচ চাষ করতে পারছেন না আবার অনেকে করেও ভালো ফলন পাচ্ছেন না। তাই চলুন জেনে নেওয়া যাক মরিচ চাষ পদ্ধতি সঠিক নিয়মে।

মাটি এবং জলবায়ু

মরিচ চাষের জন্য উঁচু পানি জমে না এমন জমির নির্বাচন করতে হবে। এবং দোআঁশ মাটি হচ্ছে মরিচ চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। তবে মরিচ চাষের জন্য অবশ্যই মাটি উর্বর করে নিতে হবে এবং একই সাথে জমিতে সেচ ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকতে হবে। মাথায় রাখতে হবে মরিচ একটি উষ্ণ ও শুষ্ক মৌসুমের ফসল।

মরিচের জাত

বাংলাদেশের সাধারণত মরিচের কোন উদ্ভাবিত উন্নত জাত নেই তবে যেগুলো চাষ হয়ে থাকে সেগুলো হলো বালিজুরী, বোনা, বাইন, সাইটা হালদা, শিকারপুরী, পাটনাই। বাংলাদেশের সাধারণত এই জাতের মরিচ গুলোই বেশি চাষ হয়ে থাকে। আর মরিচকে বাংলাদেশের সারা বছরই চাষ করা যায়।

বীজের পরিমাণ

মরিচ চাষ করার ক্ষেত্রে সরাসরি বীজ বপন করেও চাষ করা যায় আবার বীজতলায় চারা তৈরি করেও মূল জমিতে চারা রোপন করা যায়। সরাসরি বীজ বপন করলে ১.৫-২ কেজি প্রতি হেক্টরে ছিটিয়ে দিতে হবে। যদি বীজতলা তৈরি করে চারা রোপন করা হয় সেক্ষেত্রে ৪০০-৬০০ গ্রাম প্রতি হেক্টরে বীজ বপন করতে হবে।

চারা উৎপাদন ও চারা রোপন

মরিচ সাধারণত বীজতলা তৈরি করে বীজ বপন করা হয়ে থাকে। বীজতলায় বীজ বপন করার আগে জমিতে প্রতি বর্গমিটারে ১৫ কেজি গোবর সার প্রয়োগ করতে হবে। ভালো ফলাফলের জন্য বীজ বপনের আগে কম করে হলেও ২৪ ঘন্টা বীজগুলোকে পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। চারার বয়স যখন ৩০ থেকে ৩৫ দিন হবে তখন তা মূল জমিতে রোপণ করতে হবে। মরিচ চাষের জন্য মূল জমির মাটি অবশ্যই ভালোভাবে মই দিয়ে উর্বর করে নিতে হবে। চারা রোপনের ক্ষেত্রে প্রতি চারা থেকে চারার দূরত্ব রাখতে হবে ৪০ সেন্টিমিটার এবং সারি থেকে  সারির দূরত্বও একই রাখতে হবে ৪০ সেন্টিমিটার।

সার প্রয়োগ

মরিচ চাষের জন্য সঠিক নিয়মে সার প্রয়োগ করা খুবই জরুরী। এজন্য স্থানীয় কৃষিবিদের পরামর্শ নিতে পারেন। শতক প্রতি সারের পরিমাণ হলো ৬০ কেজি গোবর, ৮০০ গ্রাম টিএসপি, ৬০০ গ্রাম এমপি ও ২.৫ কেজি ইউরিয়া সার। এখান থেকে গোবর সার প্রয়োগ করতে হবে চারা রোপনের আগে জমির মাটি উর্বর করতে। একই সাথে এমপি ও টিএসপি সারও চারা রোপণের পূর্বে জমিতে প্রয়োগ করতে হবে। এবং ইউরিয়া সারকে প্রয়োগ করতে হবে দুই ভাগে প্রথম ভাগ চারা রোপনের ৩০ দিন পর এবং দ্বিতীয়ভাগ চারা রোপনের ৬০ দিন পর। 

সেচ ও রোগবালাই

মরিচ চাষের জন্য চার থেকে পাঁচ দিন পর পর সেচ দিতে হবে গ্রীষ্মকালে এবং শীতকালে দিতে হবে ১০ থেকে ১২ দিন পর পর। একই সাথে সার প্রয়োগ করলে সার প্রয়োগের পরও জমিতে সেচ দিতে হবে। জমিতে আগাছা জন্মালে তা দ্রুত দমন করে ফেলতে হবে। কারণ আগাছা ফসলের অনেক ক্ষতি করে থাকে। তাই প্রয়োজনীয় কীটনাশক বা অন্য পদ্ধতি অবলম্বন করে পোকামাকড় ও রোগবালাই থেকে গাছকে রক্ষা করতে হবে।

মরিচের ফুল ধরার ২৫ থেকে ৩০ দিন পর মরিচ খাওয়ার উপযোগী হয়ে যায়। তাছাড়া মরিচ পেকে গেলে লাল হয়ে যায় সেটা দেখেও পাকা মরিচ সংগ্রহ করতে পারবেন তবে মরিচ সংগ্রহ করার সময় লক্ষ্য রাখবেন যাতে গাছের কোন ক্ষতি না হয় বা গাছ না ভেঙ্গে যায়।

প্রিয় পাঠক আশা করি আমাদের আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আপনি মরিচ চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে একটি পরিপূর্ণ ধারণা পেয়েছেন। আরো এমন সব আর্টিকেল পড়তে আমাদের ওয়েবসাইটটি ভিজিট করুন।

আরও পড়ুন – পেঁপে চাষের আধুনিক পদ্ধতি সম্পর্কে সঠিক নিয়ম গুলো জানুন

Similar Posts