ইরি ধানের চাষ পদ্ধতি

ইরি ধানের চাষ পদ্ধতি ও বীজ বপন, চারা রোপণ, সার প্রয়োগ

ইরি ধানের চাষ পদ্ধতি এবং বীজ বপন, চারা রোপণ, সার প্রয়োগ সম্পর্কে জানতে অনেকেই গুগল এ সার্চ করেন আজকের পোস্টই আপনাদের জন্য ত চলুন শুরু করি। হাওর বা বাঁওড় শব্দ থেকে বোরো শব্দটি এসেছে। আমাদের দেশের হাওর ও বাঁওড় অঞ্চলে এক সময় ইরি বোরো ধানের চাষ হতো। আজকাল, সেচের প্রসারের কারণে এটি অন্যান্য উচ্চভূমিতেও জন্মে। ইরি বোরো পর্যায়ে, ধান চাষের ক্ষেতে বেশি সূর্যালোক পায় এবং বেশি সার শোষণ করে, কিন্তু গাছপালা ও পাতা ঝরে যায় না, ধানের কুঁড়ি বড় হয় এবং ফলন বৃদ্ধি পায়। তাই এ সময়ে আধুনিক ইরি বোরো ধানের আবাদ সম্প্রসারণের প্রয়োজন রয়েছে। ইরি বোরো ধানের ফলন বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন সঠিকভাবে জমি প্রস্তুত করা, জৈব ও রাসায়নিক সারের সুষম ব্যবহার এবং সঠিক সময়ে চারা রোপণ করা।

উত্তর দিক থেকে আসা ঠাণ্ডা বাতাস, ঘন কুয়াশা ও বরফের পানি উপেক্ষা করে ধান সমৃদ্ধ এর  জন্য কৃষকরা ইরি ধানের চাষে নেমেছে। ইরি বোরো ক্ষেত থেকে বীজ সংগ্রহ করে জমিতে সারিবদ্ধভাবে রোপণ করতে কৃষকরা ভোরবেলা বরফ-ঠান্ডা পানিতে নামেন। এছাড়া ইরি বোরো চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করা হচ্ছে। ইরি বোরোর জন্য জমি প্রস্তুত করতে কৃষকরা সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত লাঙ্গল চালান এবং কঠোর পরিশ্রম করে।

ইরি বোরো ধানের রোপণ শুরু হয়েছে। তাই গ্রামের জমিতে ইরি বোরো ধানের গাছ লাগানো হয়, উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করে। কৃষকরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন ধান চাষের জন্য। এ বছর সকল জেলায় স্বাভাবিকের চেয়ে তিনগুণ বেশি জমিতে ইরি বোরো ধানের আবাদ হবে। কারণ , আমন ধানের দাম বেশি হওয়ায় এ বছর ইরিবোরো ধানের আবাদ বেশি হবে।

ইরি ধানের চাষ এর জন্য জমি নির্বাচন:

  • সমতল, পানি ধারণকারী এবং মাঝারি উর্বর জমি ইরি ধান চাষের জন্য উপযোগী।
  • ড্রেনের ব্যবস্থা থাকা জরুরি।
  • ৫.৫ থেকে ৭.০ মাটির pH থাকা সর্বোত্তম।

ইরি ধান চাষের জন্য জমি প্রস্তুতি:

  • জমি সমতল করার জন্য মাটিতে ভালভাবে সেচ দিন।
  • জমি আগাছা এবং পূর্ববর্তী ফসলের অবশিষ্ট পরিষ্কার করা আবশ্যক।
  • জৈব সার ব্যবহারে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়।

ইরি ধানের বীজ বপন:

  • উন্নত জাতের বীজ ব্যবহার করতে হবে।
  • বীজ বপনের আগে অবশ্যই বীজ ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে।
  • এক লাইনে বীজ বপন করতে হবে।
  • বীজ বপনের পর হালকা সেচ দিতে হয়।

ইরি ধানের চারা রোপণ:

  • বীজ বপনের ২০-২৫ দিন পরে চারা রোপণ করা হয়।
  • এক সারি থেকে আরেক সারিতে ২০-২৫ সেমি দূরত্বে চারা রোপণ করতে হবে।

ইরি ধানের চাষ পদ্ধতিতে সেচ এর ব্যবস্থা:

  • ইরি ধানে প্রচুর পানির প্রয়োজন হয়।
  • বৃষ্টির পানির উপর নির্ভর না করে নিয়ন্ত্রিত সেচ ব্যবস্থা ব্যবহার করা উচিত।
  • বীজ বপন থেকে ফসল কাটা পর্যন্ত নিয়মিত সেচের প্রয়োজন হয়।

ইরি ধানের চাষে সার ব্যবস্থাপনা:

  • মাটি পরীক্ষার মাধ্যমে সারের সঠিক মাত্রা নির্ধারণ করতে হবে।
  • ইউরিয়া, টিএসপি, এমওপি এবং জিপসামের মতো সার ব্যবহার করা হয়।
  • বিভিন্ন পর্যায়ে সার প্রয়োগ করতে হবে।

পোকামাকড় ও কীটপতঙ্গ ব্যবস্থাপনা:

  • যদি কীটপতঙ্গ বা পোকামাকড় দেখা দেয় তবে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে অবিলম্বে মোকাবেলা করতে হবে।
  • জৈব কীটনাশক ব্যবহার করার চেষ্টা করুন।
  • প্রয়োজনে রাসায়নিক কীটনাশকও ব্যবহার করা যেতে পারে।

ফসল কাটা:

  • ধানের ক্ষেতে ফসল পাকা হয়ে গেলে, আপনি ফসল তুলতে পারেন।
  • ধান কাটার পর ভালো করে শুকিয়ে নিন।
  • এই শুকনো ধান সংরক্ষণ করা যায়।

উন্নত জাতের বীজ, উন্নত চাষ পদ্ধতি ও সঠিক ব্যবস্থাপনায় প্রতি হেক্টরে ৫-৬ টন ধান উৎপাদন করা যায়।

আরও পড়ুন:- হাইব্রিড লাউ চাষ পদ্ধতি কি? ও এই লাউয়ের জাতের ফলন কি?

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *