আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়ার দোয়া

আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়ার দোয়া গুলো জেনে নিন আজই

আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়ার দোয়া জানার জন্য অনাকেই গুগল এ সার্চ করেন আজকের পোস্টই আপনাদের জন্য, ত চলুন শুরু করি। মানুষ আল্লাহর প্রতিনিধি। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও জাতির যথাযথ দায়িত্ব পালনের জন্য আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়ার ছাড়া উপায় নেই। যেভাবে হযরত মুসা (আ.) তার দায়িত্ব পালনের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করেছিলেন। সেই দোয়া মহান আল্লাহ কবুল করেন। নবুয়তের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়ার পর হযরত মুসা আলাইহিস সালাম তা যথাযথভাবে পালনের জন্য আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেন। উম্মতে মুহাম্মাদির শিক্ষা ও অনুকরণের জন্য সর্বশক্তিমান আল্লাহ কর্তৃক কুরআনে প্রকাশিত করেন।

মানুষ ততক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহর কাছ থেকে সাহায্য পায় যতক্ষণ তা অপরের উপকার এর জন্য চাওয়া হয়। যখনই তারা পারস্পরিক কল্যাণের পরিবর্তে ক্ষতির আকাঙ্ক্ষায় লিপ্ত হয় এবং তাদের মধ্যে বিশ্বাসঘাতকতার পরিবেশ তৈরি হয়, তখনই আল্লাহ তার সাহায্য প্রত্যাহার করে নেন।

তাই, সর্বদা অন্যদের প্রতি সদয় হন। সামাজিক বন্ধনে আমাদের একে অপরের সাথে সংযুক্ত হতে হবে এবং একটি সুন্দর সামাজিক পরিবেশ তৈরি করতে হবে। তবেই আল্লাহ আমাদের সাহায্য করবেন।

আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়ার দোয়া

পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে যে আমি ইউনূসকে বাঁচিয়েছি এবং এভাবেই আমি আমার মুমিন বান্দাদেরকে বাঁচিয়েছি থাকি। তাই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এই দোয়া বিপদগ্রস্তদের দোয়া। যে বান্দা বিপদের সময় এই দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহকে স্মরণ করে, আল্লাহ তার ডাকে সাড়া দেন।

কেউ বিপদে পড়লে এই দুয়াটি পড়ুন এবং আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করুন। এই দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইলে তিনি তাঁর বান্দাকে বিপদ থেকে রক্ষা করবেন। দোয়াটি হলো-, ”লা-ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নী কুনতু মিনায যালিমীন

অর্থ : আপনি ছাড়া আর কোনো (সত্য) উপাস্য নেই; আপনি পবিত্র, মহান এবং বিস্ময়কর। অবশ্যই আমি সীমালঙ্ঘন ও অপরাধীদের একজন হয়ে গেছি। (সুরা আম্বিয়া : আয়াত ৮৭)

আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়ার আরও অনেক দুআ রয়েছে। তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দোয়া হল-

আরবি:

حسبُنا اللَّهُ ونعمَ الوَكيلُ على اللَّهِ توَكَّلنا

উচ্চারণঃ হাসবুনাল্লাহু ওয়া নিমাল ওয়াকিল, আলাল্লাহি তাওয়াক্কালনা।

অর্থঃ সর্বশক্তিমান আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট। তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধানকারী। আমরা আল্লাহর উপর ভরসা রাখি।

আবু সাইদ (রাঃ) এর বর্ণনা অনুসারে, সাহাবারা যখন কিয়ামতের সেই সময়ের ব্যাখ্যা শুনে ভীত হয়ে পড়ল, তখন নবী (সাঃ) তাদেরকে এই দোয়াটি পাঠ করতে বললেন। (বুখারি, হাদিস : ২৪৩১; তিরমিজি, হাদিস : ২৪৩১)

আরবি: 

رَبِّ اشۡرَحۡ لِیۡ صَدۡرِیۡ – وَ یَسِّرۡ لِیۡۤ اَمۡرِیۡ – وَ احۡلُلۡ عُقۡدَۃً مِّنۡ لِّسَانِیۡ یَفۡقَهُوۡا قَوۡلِیۡ – وَ اجۡعَلۡ لِّیۡ وَزِیۡرًا مِّنۡ اَهۡلِیۡ هٰرُوۡنَ اَخِی اشۡدُدۡ بِهٖۤ اَزۡرِیۡ – وَ اَشۡرِکۡهُ فِیۡۤ اَمۡرِیۡ کَیۡ نُسَبِّحَکَ کَثِیۡرًا وَّ نَذۡکُرَکَ کَثِیۡرًا اِنَّکَ کُنۡتَ بِنَا بَصِیۡرًا

উচ্চারণ : রাব্বিশরাহলি সাদরি, ওয়া ইয়াসসিরলি আমরি, ওয়াহ্‌লুল উক্বদাতাম মিল্লিসানি ইয়াফকাহু কাওলি, ওয়াঝআললি ওয়াযিরাম মিন আহলি হারুনা আখিশদুদ বিহি আযরি, ওয়াশরিকহু ফি আমরি কায় নুসাব্বিহাকা কাছিরা ওয়া নাজকুরাকা কাছিরা ইন্নকা কুংতা বিনা বাসিরা।

অর্থ: “হে আমার রব, আমার বুক প্রশস্ত করুন এবং আমার কাজ (দায়িত্ব) সহজ করুন; এবং আমার জিহ্বার (তোতলামি) জড়তা দূর করুন, যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে; এবং আমার পরিবার থেকে আমার জন্য একজন সাহায্যকারী নির্ধারণ করুন, আমার ভাই হারুন, এবং তার দ্বারা আমার শক্তি সুদৃঢ় করুন। এবং তাকে আমার কাজের অংশীদার করুন এই বলে যে, ” আমরা বেশী করে আপনার তাসবীহ পাঠ করতে পারি, তবে অবশ্যই আপনি আমাদের সকলকে দেখছেন, যাতে আমরা আপনাকে মহিমান্বিত করতে পারি এবং আপনাকে আরও বেশি স্মরণ করতে পারি।” (সুরা ত্বহা : আয়াত ২৫-৩৫)

তাই জীবনের সকল ক্ষেত্রে আল্লাহর সাহায্য পাওয়ার জন্য মুসলিম মুমিনদের জন্য এই দোয়া  বেশি বেশি করে পড়া জরুরি। এই দোয়ার মাধ্যমে দ্বীন ইসলামের কাজে নিজেকে নিয়োজিত করা এবং সাহায্য পাওয়ার চেষ্টা করা জরুরি।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *