আনারস চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে তাহলে ভালোভাবে জেনে নিন আজ

আনারস চাষ পদ্ধতি

আনারস চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে অনেকের আগ্রহ রয়েছে। যার ফলে প্রতিনিয়ত অনেক মানুষ আনারস চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে গুগলে সার্চ করে থাকেন। বাংলাদেশের যতগুলো সুস্বাদু ফল চাষ হয় তার ভেতরে আনারস অন্যতম। এটি ছোট থেকে বড় সকলেই পছন্দ করে থাকেন। আনারসের জুস এবং জেলি সকলের পছন্দ। সুস্বাদু এই ফলটি  বাংলাদেশের পাহাড়ি অঞ্চলে বেশি চাষ হয়ে থাকে। তবে উপযুক্ত মাটি নির্বাচন করে এটিকে সারাদেশেই চাষ করা যায়।

আনারস শুধু খেতে সুস্বাদুই নয় এর রয়েছে বহু পুষ্টি গুনাগুন। যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। আনারসের রয়েছে ভিটামিন, খনিজ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান। এগুলোর রয়েছে বহু স্বাস্থ্য উপকারিতা। উল্লেখযোগ্য কিছু উপকার হলো:

  • হজমশক্তি উন্নত করে।
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
  • ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
  • চোখের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।
  • হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।
  • রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

এতো সব স্বাস্থ্য উপকারিতা এবং খেতে সুস্বাদু হওয়ায় আনারসের চাহিদা সব সময় বেশি থাকে। যার ফলে অনেকেই আনারস চাষ করতে চান। তাই চলুন জেনে নেওয়া যাক সঠিক নিয়মে আনারস চাষ পদ্ধতি এবং চাষের কৌশল।

আনারস চাষ পদ্ধতি

আনার চাষের ক্ষেত্রে কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে। যা সঠিকভাবে অনুসরণ না করলে আনারস চাষে ভালো ফলন পাওয়া যাবে না। তাই চলুন জেনে নেওয়া যাক।

আনারসের জাত:

বাংলাদেশে বেশ কিছু জনপ্রিয় আনারসের জাত রয়েছে। যেগুলো থেকে আপনার পছন্দ অনুযায়ী সঠিক যা আপনার নির্বাচন করতে হবে। এর ভিতরে কিছু জনপ্রিয় জাত হলো:

হানিকুইন: এটি বাংলাদেশে পাওয়া সব থেকে মিষ্টি আনারসের জাত। পাকা আনারসের শাঁস হলুদ রঙের হয়ে থাকে। গড় ওজন আনুমানিক ১ কেজির আশেপাশে। 

জায়েন্টকিউ: এটির গাছের পাতা একদম সবুজ কাটাবিহীন হয়ে থাকে। এই জাতের আনারস পেকে গেলেও অনেকটা সবুজ ভাব থাকে । গড় ওজন আনুমানিক ২ কেজি।

জলঢুপি ও ঘোড়াশাল: এই দুই জাতের আনারস পেকে গেলে কিছুটা লালচে এবং ঘিয়ে সাদা হয়ে থাকে। চোখ প্রশস্ত। গড় ওজন আনুমানিক ১-১.৫ কেজি। পাতা কাটা বিশিষ্ট, চওড়া ও ঢেউ খেলানো।

বাংলাদেশের সাধারণত এই জাতের আনারস চাষ হয়ে থাকে। তাই আপনার পছন্দ অনুযায়ী জাত নির্বাচন করুন।

উপযুক্ত মাটি এবং জমি:

আনারস চাষের জন্য জমি নির্বাচনের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। এবং অবশ্যই পানি জমে থাকে না এমন উঁচু জমি নির্বাচন করতে হবে জমির মাটি হতে হবে দোআঁশ কিংবা বেলে দোআঁশ। এই দুই মাটিতেই আনারস চাষ হয়ে থাকে। জমি তৈরি হয়ে গেলে এবার বেড তৈরি করতে হবে। জমি থেকে ১৫ সেন্টিমিটার উঁচু এবং ১ মিটার প্রশস্ত বেড হতে হবে। এক বেড থেকে অন্য বেডের দূরত্ব রাখতে হবে ৫০ থেকে ১০০ সেন্টিমিটার।

চারা রোপন:

বাংলাদেশে আনারসের চারা রোপনের সব থেকে ভালো সময় হচ্ছে মধ্য আশ্বিন থেকে মধ্য অগ্রহায়ণ। বাংলাদেশের আবহাওয়া অনুযায়ী এই সময়টাতে আনারসের চারা রোপন করা উচিত। তবে যদি ভালো সেচ ব্যবস্থা থাকে তাহলে মধ্য মাঘ থেকে মধ্য ফাগুন মাস পর্যন্ত চারা রোপন করা যাবে।

সার ব্যবস্থাপনা:

আনারস চাষের ক্ষেত্রে সঠিক নিয়মে এবং সঠিক পরিমাণে সার প্রয়োগ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এতে করে ভালো ফলন পাওয়া যায়। আনারস চাষের জন্য চারা প্রতি সারের পরিমাণ হলো:

  • পচা গোবর ৩১০ গ্রাম।
  • ইউরিয়া সার ৩৬ গ্রাম।
  • টিএসপি সার ১৫ গ্রাম।
  • এমওপি সার ৩৫ গ্রাম।
  • জিপসাম সার ১৫ গ্রাম।

চারা রোপন করার চার থেকে পাঁচ মাস পর ৫ ভাগে ভাগ করে ৫ কিস্তিতে ইউরিয়া ও পটাশ সারকে প্রয়োগ করতে হবে। এবং অবশিষ্ট সারগুলোকে বেড তৈরির সময় মাটিতে প্রয়োগ করতে হবে। মাটির উর্বরতা এবং শক্তি বৃদ্ধি করার জন্য।

সেচ এবং আগাছা দমন:

আনারস চাষের ক্ষেত্রে শুকনো মৌসুম আসলেই যখন মাটি শুকিয়ে যাবে তখনই সেচ দিতে হবে। এবং যখন অতিরিক্ত বৃষ্টি হবে তখন যেন জমিতে পানি জমে না থাকে তাই পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখতে হবে। আর চারা যদি অতিরিক্ত বড় হয়ে যায় তাহলে ৩০ সেন্টিমিটার রেখে আগার পাতা গুলো কেটে ফেলতে হবে।

আনারস চাষের ক্ষেত্রে আগাছা খুবই ক্ষতি করে ফসলের। তাই সব সময় আগাছা দমন করতে হবে। বছরে অন্তত দুইবার আগাছা পরিষ্কার করতে হবে। আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বর মাসে একবার ফসল সংগ্রহের পর এবং দ্বিতীয় বার করতে হবে অক্টোবর থেকে নভেম্বর মাসে। জমিতে সেচ দেওয়ার পর এবং সার প্রয়োগের পর মালচিং করে নিলে জমি আগাছা মুক্ত থাকে। সবথেকে ভালো হয় আগাছা দিয়ে মালচিং করলে কারণ আগাছা একসময় পচে জৈব সার হিসেবে মাটিতে যুক্ত হয় এবং এতে করে মাটির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি পায়।

ফসল সংগ্রহ:

আনারসের ফসল সংগ্রহের সময় সাধারণত একেক জাতের একেকটা হয়ে থাকে। তবে সাধারণত বেশির ভাগ আনারসের ফলন হয়ে থাকে চারা লাগানোর ১৫ থেকে ১৬ মাস পর জ্যৈষ্ঠ থেকে ভাদ্র মাসে।

প্রিয় পাঠক আশা করি আমাদের আজকের এই আর্টিকেল এর মাধ্যমে আনারস চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে আপনি একটি পরিপূর্ণ ধারণা পেয়েছেন আরো এমন সব আর্টিকেল পড়তে আমাদের ওয়েবসাইটটি ভিজিট করুন।

আরও পড়ুন – সঠিক উপায়ে হাইব্রিড ঢেঁড়স চাষ পদ্ধতি জেনে-নিন আজকেই

Similar Posts